চাঁদপুর লঞ্চ ভ্রমন অথবা প্রকৃতির সাথে একমুঠো রোমান্স।।
![]() |
| চাঁদপুর মোহনায় অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভ রক্তধারা |
ঢাকা থেকে মাত্র চার ঘন্টার পথ চাঁদপুর। আমার মত যারা পানি দেখলেই পাগল হয়ে যান তাদের জন্য চাঁদপুর একটা আদর্শ দর্শনীয় জায়গা। আমার বাড়িও চাঁদপুরে না আবার এক কথায় আমার চোদ্দ গুষ্টির ও কেউ থাকে না ওখানে। তারপরেও অসংখ্য বার আমার যাওয়া হয়েছে এখানে, বলতে গেলে যখন ই পারিবারিক, সাংসারিক বা অফিসের কাজের চাপে অস্থির হয়ে যাই তখন ই দোড় দেই চাঁদপুর। আমার বউ অবশ্য মাঝে মাঝে সন্দেহ করে আমি হয়ত গোপনে চাঁদপুরে আরেকটা বিবাহ করেছি নইলে চাঁদপুর নিয়ে এত লাফালাফি করি কেন।
![]() |
| সদরঘাট এ লঞ্চের সারি |
চাঁদপুরে আমার ঘোরার জায়গা মূলত আসা যাওয়ার লঞ্চ জার্নি আর চাঁদপুর তিন নদীর মোহনা। এই মোলহেড বা মোহনাই চাঁদপুরের প্রধান আকর্ষন বলা যায়। পদ্মা মেঘনা আর ডাকাতিয়া এই তিন নদী একসাথে মিশেছে এখানে আর তাই এই জায়গার ঢেউ গুলো সবসময় অস্থির থাকে। একসময় বরিশাল গামী লঞ্চ গুলো যখন মোহনা পাড়ি দিত সবাই আল্লাহ রাসুলকে স্বরন করত তবে কালের পরিক্রমায় সেই মোহনা এখন অনেক শান্ত। অসংখ্য কঙ্ক্রিট এর ব্লক ফেলে ফেলে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে এর অস্থিরতা।
![]() |
| এটাই মোহনা |
ঢাকা সদরঘাট থেকে প্রায় প্রতি ঘন্টায় ই সরাসরি অসংখ্য লঞ্চ ছেড়ে যায় চাঁদপুরের উদ্যেশে। সকাল ৬.৩০ থেকে রাত ১২.৩০ টা পর্যন্ত রয়েছে চাঁদপুরের লঞ্চ। এর ভিতর কিছু লঞ্চ রয়েছে মাত্র তিন ঘন্টায় পৌঁছে যাবে চাঁদপুর এ । বোগদাদিয়া ৭, ইগল ৩ এর ভিতর অন্যতম এছাড়া সাইজের দিক থেকে রফ-রফ ২, ময়ুর ২,৭ এগিয়ে।
![]() |
| চাঁদপুর লঞ্ছঘাটে ছেড়ে যাবার অপেক্ষা করছে এম ভি ঈগল-৩ |
চাঁদপুর লঞ্চঘাট নেমে পায়ে হেটেই পৌঁছান যায় বড়স্টেশন বা মোহনা আবার অটো রিক্সাতেও যাওয়া যাবে। আমার কাছে পায়ে হাটার রাস্তাটা বেশি উপভোগ্য। একদম মেঘনা নদীর বেড়িবাধ ধরে হাটতে খুবই ভাল লাগে। বর্ষাকালে নদী একদম পানিতে টইটুম্বুর থাকে আবার শীতকালে নদিতে পানি কম থাকলেও পানির রঙ থাকে একদম মার্বেল পাথরের মত সবুজ। আপনি যে সিজন এই যান না কেন এক এক সময় এক এক রকম ফিল পাবেন এখানে। আর যদি কক্ষনো পুর্নিমার রাতে লঞ্চের ছাদে বসে আসতে পারেন তবে এটার চাইতে আর স্বরনীয় আর কিছুই থাকবে না আপনার জীবনে।
![]() |
| বোগদাদিয়া ৭ এর ছাদ থেকে তোলা |
পদ্মা ও মেঘনাতে বেশ কিছু চর রয়েছে যেগুলো সাধারণত বর্ষায় ডুবে যায় কিন্তু শরতকালের দিকে জেগে ওঠে। এর মধ্য উল্লেখযোগ্য হল বালুর চর, মেঘনার চর, পদ্মার চর ও স্থানীয় দের ভাষায় আরো কিছু নাম রয়েছে। আমার কাছে মেঘনার চরকেই বেশি আকর্ষনীয় মনে হয়েছে। মোহনা থেকে ট্রলারে করে এই সব চরে যাওয়া যায়। তবে যাবার আগে অবশ্যই দর দাম ভাল ভাবে মিটিয়ে নিতে হবে। নইলে পেয়ে বসতে পারে আপনাকে। মেঘনার চর এর মাটি একদম সমান্তরাল ও কোন চোরা গর্ত নেই তাই অনায়াশেই নিতে পারেন গোসলের সিদ্ধান্ত, যেমন টা আমরা নিয়েছিলাম।
![]() |
| মেঘনার চরে তোলা |
![]() |
| মেঘনার চর |
গোসল তো শেষ এবার খাবার পালা। ইলিশের শহর চাঁদপুর এ আসবেন আর ইলিশ না খেয়ে চলে যাবেন তা কি করে হয়! তাই আর দেরি না করে সোজা চোলে যান মাছের আড়তে, মোহনা থেকে পায়ে হাটা পথ। তারপর পছন্দ সই মাছ কিনে পাশেই হোটেল এ গিয়ে বলুন ভেজে দিতে। আর খাওয়া শেষে একটু মিস্টি মুখ তো করা লাগে, আর তাই চলে যান ওয়ান মিনিট মিস্টির দোকানে। ওদের আইসক্রিম ও মিস্টি বেশ নামকরা।

খাওয়াদাওয়া শেষ, এবার একটু বিস্রাম এর পালা। মোহনার চার পাশে অসংখ্য বেঞ্চ পাতা রয়েছে আপনার জন্য। খালি দেখে যে কোন একটায় বসে পড়ুন আর উপভোগ করুন আর হারিয়ে যান।
সালমান পাপন
এডমিনঃ দে-ছুট ভ্রমন সংঘ
www.facebook.com/salman.papon
সালমান পাপন
এডমিনঃ দে-ছুট ভ্রমন সংঘ
www.facebook.com/salman.papon
![]() |
| ডাকাতিয়া নদী |








mama super
ReplyDelete