পায়ে হেটে প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন ভ্রমন !!
![]() |
| Add caption |
এবারের সেন্ট মার্টিন ট্যুর প্লান এ ছিলো আমার ফ্যামিলি মেম্বার রা। সদস্য সর্বমোট ৫ জন, এর ভিতর তিন জনই প্রমিলা সদস্য। সেন্ট মার্টিন এর এবারের প্লান এর হিসাব মিলাতে বেশ কাঠ খড় পোড়াতে হয়েছে। কারন আমার প্রথম চয়েস ছিল জ্যোৎস্না থাকবে, এমন একটা সময় হবে যখন টূরিষ্ট এর আনাগোনা একটু কম, আর লোকেশন হবে পশ্চিম বিচ।
যাইহোক, সবকিছু মিলিয়ে যাত্রার দিন ধার্য করলাম মংলবার ২৩ ফেব্রুয়ারী রাত। প্রথম বাধা হিসেবেই অফিসের ছুটি, এরপর বাসের টিকিট, তারপর পছন্দের হোটেল বুকিং। আল্লাহর অশেষ রহমতে সব বাধা অতিক্রম করে যথা সময়ে যাত্রা শুরু করতে পেরেছিলাম তবে বাসের সিট পড়েছিল একটু শেষের দিকে।
টেকনাফ জাহাজ ঘাটে পৌছুলাম সকাল ৮.৩০ মিনিটে, নেমেই প্রথমেইই ঢাকার রিটার্ন টিকিট কনফার্ম করলাম।
আমরা কেয়ারি ক্রুজ এন্ড ডাইন এর টিকিট নিলাম ৫ টা, একটু দরদাম ও দে-ছুট ভ্রমন সংঘের পরিচয় দিতেই প্রতি টিকিটে ২০০ টাকা করে ডিসকাউন্ট ও পেলাম। আপনারাও চেষ্টা করবেন দরদাম করার, মামাদের একটু খুশি করলেই বেশ ভাল অংকের ছাড় পেতে পারেন আমার মত। জাহাজ ছাড়লো ৯.৩০ টায়, ভরা জোয়ারে। টেকনাফের মন মাতানো সৌন্দর্য, পাহাড়ের সারি আর গাংচিলের ছুটোছুটি মনকে বেধে রাখা গেলো না জাহাজের এসি কেবিনে। সোজা চলে এলাম করিডোরে, এরপর পূরো আড়াই ঘন্টা শুধু দাঁড়িয়ে ছিলাম রেলিং ধরে। একপাশে মিয়ানমারের সীমানা অপর পাশে টেকনাফের পাহাড়ের মিছিল, নদীতে সারি সারি মাছ ধরা নৌকা। এমন সময় জাহাজের মাইকে ঘোষনা দিল আমাদের জাহাজ এখন নদী ও সাগরের মোহোনা অতিক্তম করছে। উত্তাল ঢেউ আর পানির আলাদা আলাদা রঙ জানান দিচ্ছে স্রিষ্টিকর্তার অপার বিস্ময় কে। সাগরের নীল (নাকি সবুজ) সচ্ছ পানি আর পাশাপাশি নাফ নদির ঈশত ঘোলাটে পানি, মনে শুধু প্রশ্ন জাগে কিভাবে সম্ভব ?
![]() |
| কেয়ারি জাহাজ ঘাট, টেকনাফ। |
দূরে দেখতে পেলাম সেন্ট মার্টিনের আবছা অবয়ব। সর্বমোট ৫ টি জাহাজ একে একে সারিবদ্ধ ভাবে এগিয়ে চলছে, আমাদের টা সবার পিছনে। এই রুটে শুরুটা কেয়ারি সিন্দাবাদ দিয়ে হলেও একে একে যোগ হয়েছে কেয়ারি ক্রুজ এন্ড ডাইন, এম ভি ইগল, বে ক্রুজ, এলসিটি কুতুবদিয়া, গ্রিল লাইন(আরো দুই একটা আছে-নাম জানা নেই)। এছাড়া নিয়মিত স্পিড বোট ও ট্রলার তো রয়েছেই।
জাহাজ সেন্ট মার্টিন ঘাটে পোউছুলেই প্রথমেই অবাক হবেন হাজার হাজার ছোট মাছের ঝাক দেখে। মনে হবে আপনাকে স্বাগত জানাতেই যেন ওরা হাজির হয়েছে। সাগরের নীল সচ্ছ পানিতে এই দৃশ্য নিমেশেই আপনার পথের সব ক্লান্তি দূর করে দেবে।
জাহাজ থেকে নামার পর প্রথমেই সাক্ষাত হবে কিছু ডাকাত বাহিনীর সাথে। আমি ভ্যানগাড়ি চালকের কথা বলছি। যারা এর আগে সেন্ট মার্টিন গিয়েছেন তারা আশা করি আমার সাথে একমত হবেন। সামান্য পথ এরা দাবি করে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। খরচের মূলত এখান থেকেই শুরু হবে আপনার। একে একে খাবার খরচ, পানি, সাইকেল, শুটকি মাছ, এমনকি ডাবের দাম পর্যন্ত ও চড়া। আমরা কিছুদুর হেটে শেষে ১৫০ টাকায় অবকাশ হোটেল পর্যন্ত ভ্যান ঠিক করলাম। ওখান থেকে পায়ে হেটে ৫ মিনিটের রাস্তা আমাদের রিসোর্ট। রিসোর্ট থেকে আগে থেকেই একজন কে পাঠিয়ে দিয়েছিল আমাদের রিসিভ করার জন্য। আমরা রিসোর্ট এ পৌছে আনন্দে অভিভুত, আমাদের রিসোর্ট ছিলো “ব্লু লেগুন” একদম ই বিচের কোল ঘেষে, জোয়ারের সময় পানি কাছাকাছি চলে আসে রিসোর্টের।আমি ছাড়া বাকি সবাই এই প্রথমবার সমুদ্র দর্শন করছে, ওদের উচ্ছাস টা আরো বেশি। এছাড়া টুরিষ্টদের বিনোদনের ব্যাবস্থাও ভাল এখানে, আর স্টাফরা ও বেশ কেয়ারফুল। মনে মনে আল্লাহ কে ধন্যবাদ জানালাম এইজন্য, কারন রিসোর্টের পরিবেশ ভাল না হলে ঘোরার মজাটা অর্ধেক নষ্ট হয়ে যেত।
![]() |
| ভাটার সময় সেন্টমার্টিন এর উত্তর বিচ। |
আমরা একটু ফ্রেস হয়ে বের হয়ে পড়লাম সমুদ্র দেখতে সাথে দুপুরের খাবারটাও সেরে নেওয়া দরকার। পশ্চিম বিচের কোল ঘেষে হাটা শুরু করলাম, দ্বীপের এ পাশটা একটু নিরিবিলি এবং প্রবালে ভরপুর। যারা একটু হইচই কম পছন্দ করেন আমার মত তারা এদিকের রিসোর্ট গুলোতে থাকতে পারেন। বেশ কিছু ভাল মানের রিসোর্ট পাবেন পশিম বিচে, যেমন আমাদের টা-ব্লু লেগুন, পান্না রিসোর্ট, লাবিবা, সায়েরি ইকো রিসোর্ট, সিমানা পেরিয়ে, নিল দিগন্ত, কিংশুক, সেইলর মুন, হুমায়ুন আহমেদ স্যার এর সমুদ্র বিলাস ইত্যাদি। তবে সায়েরি ইকো রিসোর্টের বিচের ঢেউ গুলো বিশাল আর চমৎকার। হোটেল এর চাইতে রিসোর্টে থাকলে আরাম পাবেন বেশি, কারন খোলামেলা এবং প্রাইভেসি।
![]() |
| ব্লু লেগুন হোটেল থেকে তোলা |
উত্তর বিচের আবহ টা অনেকটা কক্সবাজারের মত মনে হয়েছে আমার কাছে। মানুষের আনাগোনা বেশি, প্রবাল ও তুলোনামূলক কম হওয়াতে এই পাশটাতে সমুদ্রে নেমেও অনেক আরাম। বিচ অনেক বড় ও মসৃণ, হেটে হেটে সাগরের অনেক ভিতরে যাওয়া যায়, তবে ভাটার সময় সাবধান। কিছু জায়গায় লাল পতাকা দেওয়া আছে সেসব জায়গা ভাটার সময় এভয়েড করা ভাল।
আমরা দুপুরের খাবার খেতে জাহাজ ঘাটে আসলাম, রেস্টুরেণ্ট গুলোর সামনে অনেক রকমের মাছ সাজানো। দরদাম করে ঢুকে পড়লাম শাহিনা রেস্তোরাঁতে, সেন্টমার্টিন এসেছি যখন তখন মাছ খাবো পেট পুরে। অর্ডার দিলাম কালো চান্দা, সুন্দরি, উড়ুক্কু মাছ, টুনা ও চান্দা। চান্দা ছাড়া বাকি সব গুলোই ভাল লেগেছে। তবে কালো চান্দা, সুন্দরি মাছ একটু বেশি ই পিওর। আপনাদের একটা সিক্রেট বলি, দুপুরের খাবার অবশ্যই চেষ্টা করবেন জাহাজ ছাড়ার পর খেতে, কারন এ সময় খাবারের দাম অনেক কমে যায়। আমরা সেন্ট মার্টনে যে কয়বার খেয়েছি প্রতিবার শাহিনা রেস্তোরাঁতে খেয়েছি, প্যাকেজ সিস্টেমে। আমাদের কাছ থেকে দাম যথেষ্ট কম রেখেছে, তবে এখানেও মামাদের একটু খুশি করার ব্যাপার ছিল। বিকাল বেলা সমুদ্রে হাটাহাটি, জেলেদের মাছ ধরার নৌকা প্রস্তুতি দেখতে দেখতে কেটে গেল। জাহাজ ঘাটে জেটির শেষ মাথায় দাঁড়িয়ে অথবা নিচে পা ঝুলিয়ে বসে সমুদ্র দেখতে দেখতে মনে হতেই পারে “লাইফ ইজ বিউটিফুল”, সামনে শুধু নীল আকাশ আর নীল সমুদ্র ।
কোথাও ঘুরতে গেলে হঠাত পরিচিত কারো দেখা পেলে অনেক ভালো লাগে, বাংলাদেশ ব্যাংক এর সাইফুল ভাই এর সাথে দেখাটাও এইভাবে। উনি বাংলাদেশের সবচাইতে ক্রেজি টুরিস্টদের একজন, পুরো লাইফটাই যার ঘোরাঘুরিতে ভরপুর। উনি আমাদের দে-ছুট এর একজন শুভাকাঙ্ক্ষীও।
সেন্ট মার্টিন এ রাতের সৌন্দর্যটাও কিন্তু অসাধারন। চারিদিকে নিশ্চুপ, শুনশান নিরবতা, আকাশে তারাদের আনাগোনা, সাগরে জেলেদের মাছ ধরা ট্রলারের লাল নীল বাতি সবকিছু একটা সপ্নময় আবহ তৈরি করে। তবে চাঁদমামা অনেক অনেক লূকোচুরি করেছে এবার আমাদের সাথে। রাতে জোয়ারের পানি আমাদের রিসোর্ট পর্যন্ত চলে আসে, চেয়ার নিয়ে বসে পড়লাম সৈকতে। একটু পর পর ঢেউ এসে পা ভিজিয়ে দিয়ে যায়, বড় বড় ঢেউ গুলো যখন আসে মনের কোনে অজানা একটা ভয় উকি দেয় পরমুহুর্তেই আবার আনন্দ; এমন ঢেউ ঢেউ খেলা বেশ রাত পর্যন্তই চলল আমাদের।
সকালে জোয়ার থাকতে থাকতেই রওনা হয়ে গেলাম ছেড়া দ্বীপের উদ্দেশে, হেটে। অনেকেই বলছিল সম্ভব না এই প্রমিলা গ্রুপ নিয়ে হেটে যাওয়া, তবে ঘাবড়াই নি কারন জেদ ছিল হেটে যাব ছেড়া দ্বিপ।
আপনাদের কাছে অনুরোধ, সেন্ট মার্টিনে গেলে একবার হলেও পায়ে হেটে ছেড়া দিপ যাবেন। বুঝবেন প্রকৃতির কি অপার সৌন্দর্য আছে এখানে। পুরোটা পথই অসাধারন, অজস্র প্রবাল সাদা-কালো, শামুক-ঝিনুক, কখনো পাথুরে বালু আবার কখনো সাদা বালু, আবার কালো রঙের বালূও দেখলাম এক জায়গায়। প্রকৃতিকে কাছে পেতে চাইলে আপন করে নিতে চাইলে এর চাইতে সুন্দর সুযোগ আর আসবে না। দেখবেন প্রকৃতি ই আপনাকে আপন করে নেবে।
শপথ ছিলো কোন প্রবাল আনবো না সেন্ট মার্টিন থেকে, চেষ্টা করেছি। অনেক সুন্দর প্রবালের দেখা পেয়েছিলাম ছেড়া দিপ যাবার পথে, সুধু হাত দিয়ে ছুয়ে লালসার দমন করেছি। দক্ষিন বিচের কিছু জায়গায় সমুদ্র অনেক সচ্ছ আর ঢেউ গূলো বড় বড়। আছড়ে পড়ছে প্রবালের গায়ে , কেয়াবনের ছায়ায় বসে এ দৃশ্য বড়ই মনোরম। আমরা যতই এগুচ্ছিলাম প্রকৃতি ততই নির্জন হচ্ছিল, মানুষের দেখা একদমই নেই। একটা কথা বলে নেওয়া ভাল, সেন্টমার্টিনের মানুষের আতিথেওতা, নিরাপত্তা সবকিছুই এই দ্বীপ টার মতই সুন্দর। আপনি যেকোন সময় যে কোন জায়গার ঘোরাঘুরি করতে পারবেন নির্ভয়ে, এমনকি আমার জানামতে চুরী বা ছিনতাই এর মত ঘটনাও ঘটেনি এখানে। আপনাদের কারো এমন কিছু জানা থাকলে কমেন্টে শেয়ার করতে পারেন। অন্য কোথাও হলে হয়তবা এভাবে ট্রাকিং করার সাহস পেতাম না।
আনুমানিক আড়াই ঘন্টা হাটার পর আমরা দেখা পেলাম ছেড়া দ্বীপের। যাবার সময় কিছু কিছু দৃশ্য এতই মুগ্ধকর ছিল মনে হচ্ছিল এটা হলিউডের মুভির কোন দৃশ্যপট। পথে আমরা বিরতি নিচ্ছিলাম কেয়া বনের ছায়ায় আবার কখন দৌড় দিয়ে নেমে পড়েছি সমুদ্রে, মাথার উপর সুর্যের প্রকোপ বেশি থাকাতে হাটতে কষ্ট হচ্ছিল তবে বাসা থেকে ছাতা নিয়ে এসেছিলাম বলে এই যাত্রায় রক্ষা। আপনারা যারা হেটে যাবেন চেষ্টা করবেন সকাল ছয়টার দিকে যেতে।
হাটতে হাটতে চলে এলাম মিউজিক ইকো রিসোর্টে ছেড়া দ্বীপের প্রারম্ভে একমাত্র রিসোর্ট, ভিতর টা অসাধারন; কোন ইটের স্থাপনা নেই, ছোট ছোট তাবু দিয়ে বানানো ঘর। এ যেন প্রকৃতির ভিতর আরেক প্রকৃতি। রিসোর্টের কর্নধার আজাদ ভাইএর কাছ থেকে জানতে পারলাম ছেড়া দ্বীপের এ জায়গাটা থেকে সুর্যদয় সুর্যাস্ত একসাথে উপভোগ করা যায়। একটু এগুতেই দেখালাম সবুজ ম্যানগ্রোভ গাছের সারি। আর সামনে ছেড়া দ্বীপের ছেড়া অংশ। জোয়ারের পানি এখনো কমেনি তাই ছেড়া অংশটুকু একটা খালের আকার নিয়েছে, দুই পাশে সমুদ্র। প্রমিলা গ্রুপকে একটা নৌকায় উঠিয়ে দিয়ে আমরা কোমর সমান পানিতে পাড়ি দিলাম ছেড়া দ্বিপ চ্যানেল। ছেড়া দ্বিপ পুরোটাই প্রবাল দিয়ে ঠাসা, একটু সামনে এগুতেই দেখলাম একটা কচ্ছপ মরে পড়ে আছে আরেকটু সামনে আরেকটা। দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেল। মন আরো খারাপ হল যখন দেখলাম পুরো ছেড়া দ্বিপটাকে একটা ডাস্টবিন বানিয়ে রেখেছি আমরা। এত চিপস, ক্যান, পানির বোতল আমি ঢাকা শহরেও দেখি নাই। আমরা সবাই তো সচেতন নাগরিক, আমরা একটু কষ্ট করলেই আমাদের স্বপ্নের দ্বীপকে পরিষ্কার রাখতে পারি।
হাটতে হাটতে চলে গেলাম ছেড়া দ্বীপের একদম শেষ মাথায়, যে অংশটা মানচিত্রে লেজের মত দেখায়। সবচাইতে বিশাল আকারের ঢেউ দেখলাম এখানে, বিশ্বাস করুন যখন ছবি তুলছিলাম বুকের ভিতরটা ধড়াস ধড়াস করে উঠছিল, এই বুঝি এক বিশাল ঢেউ এসে ভাসিয়ে নিয়ে গেল আমায়।
ফেরার পথে সবাই ক্লান্ত, একটু বিছ্রাম নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম ট্রলারের। আমার বিবি আমাকে অবাক করে দিয়ে বলল ফেরার পথটাও হেটে যেতে চায়, আমি সাহস পাচ্ছিলাম না। যখন বুঝলাম উনি সিরিয়াস হাটা শুরু করলাম সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে। ফেরার সময় অন্যদিক দিয়ে গেলাম, যেপাশে জেটি মানে উত্তর পুর্ব দিক দিয়ে। তখন ভাটা চলছিল, যতদূর চোখ যায় শুধু প্রবাল আর প্রবাল। বেলা গড়িয়ে তখন বিকাল ৪ টা, সাগর একদম শান্ত। এদিকটাতে সৈকত একদম সমতল আর প্রবাল গুলোও লাইন বাই লাইন সাজানো, যেন সবাই নিয়ম মেনে এক সারিতে দাঁড়িয়ে অপরপাশে লম্বা কেয়া বনের সারি। সবচাইতে দীর্ঘ ও বিরামহীন কেয়া বনের সারি এদিক টাতেই বেশি চোখে পড়ে।
একটু পর পর জেলে নৌকা বাধা, কেউ মেরামতের কাজ করছে আবার কেঊ অপেক্ষা করছে জোয়ারের জন্য। পিচ্চি পিচ্চি পোলাপান গুলাকে দেখলাম মনের আনন্দে খেলা করতে, এখাণকার পিচ্চি গুলা বেশ কিউট ও বুদ্ধিমান হয়তো সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয় বলে। আপনাকে দেখলেই টাকা চাইবে আর কনভিঞ্চ পাওয়ার ও বেশ, এদের কমন ডায়লগ আমার বাবা নাই, সত্য মিথ্যা জানি না তবে ২-১ জনকে সাহায্য করেছিলাম।
এদিকের সৈকতে শামুক, ঝিনুক, কড়ি এর প্রাধান্য বেশি দেখলাম। আমাদের ভিতর একরকম প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেল কে কত সুন্দর ঝিনুক কুড়াতে পারে। নানা রকম নানা রঙের ঝিনুক এই বৈচিত্রময় সেন্টমার্টিন দ্বীপে। এ জন্যই সেন্ট মার্টিন কে স্বপ্নের দ্বীপ মনে হয় আমার কাছে। দেখতে দেখতে আমাদের হাত ভর্তি হয়ে গেল নানা সাইজ নানা নকশার শামুক ঝিনুকে। আর আমরাও কখন যেন পৌছে গেলাম আমাদের কাংখিত জাহাজঘাটে।
বিকালে শাহিনা রেস্তোরাতে খাবার খেয়ে সোজা রিসোর্টে ফিরে গেলাম। চেয়ার নিয়ে আবার বসে পড়লাম সাগরে, ঢেউএর সাথে লূকোচুরি খেলতে।
পরদিন ফিরে যাব যান্ত্রিক জীবনে, ঢাকা।
ফেরার মুহুর্ত টা সবসময় কষ্টের।
সালমান পাপন


















Awesome,Carry on dude.........
ReplyDeleteThanks bro.... keep ur pray..
DeleteThanks bro.... keep ur pray..
DeleteThis comment has been removed by the author.
ReplyDelete